অনলাইনে ইনকাম করার নিশ্চিত উপায় ২০২১ আপনি কি চাকরী করার পাশাপাশি অনলাইন থেকে ইনকাম করে ইনকাম রেট বাড়াতে চান? অথবা, আপনি একজন শিক্ষার্থী হয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইন থেকে ইনকাম করে নিজের হাত খড়চ চালাতে চান? নয়তোবা, নিজের ইনকামের টাকায় বাবা-মাকে খুশি করতে চান? বা, নিজের চাকরী ইনকাম বা ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন? তাহলে এই ব্লগটি আপনার জন্য। প্রথম থেকে শেষ অবধি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, আশা রাখছি আমরা আপনাকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো। অনলাইনে ইনকাম করার অসমাপ্ত রাস্তা রয়েছে। এখানে আমরা শুধু কয়েকটি রাস্তা আপনাকে দেখাবো। ফ্রীল্যান্সিং বর্তমানে অনলাইন ইনকামপ্রেমীদের কাছে ফ্রীল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। সহজভাবে ফ্রীল্যান্সিং বলতে বুঝায় মুক্ত পেশা অর্থ্যাৎ আপনাকে কারো আন্ডারে থেকে কাজ করতে হবেনা, নিজ ইচ্ছানুযায়ী কাজ করেত পারবেন। আপনার যদি ট্যালেন্ট থাকে যেমন লেখালেখি, গ্রাফিক ডিজাইন, ফটোগ্রাফ ইত্যাদি এবং আপনার দক্ষতা বিক্রি করার মতো সুযোগ থাকে, তাহলে আপনি ফ্রীল্যান্সিং জগতে পা রাখতে পারেন। ফ্রীল্যান্সিং থেকে আপনি ইচ্ছে করলে বেশ মোটা অংকের টাকা কামাতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনাকে সঠিকভাবে সঠিক পথে ধৈর্য সহকারে পরিশ্রম করে যেতে হবে। আমরা আপনাকে এখানে স্টেপ বাই স্টেপ কিছু কার্যকরী গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করছি। আপনি যদি সঠিকভাবে ফলো করেন, ইন-শা-আল্লাহ ভালো কিছু পাবেন। ফ্রীল্যান্সিং এ অনেক সেক্টর রয়েছে। আপনাকে প্রথমে সেই সেক্টরগুলো থেকে আপনার উপোযোগী বা আপনি এইটা নিয়ে কাজ করলে সফল হতে পারবেন এমন একটা সেক্টর নির্বাচন করতে হবে। ডিজিটাল মার্কেটিং ডিজিটাল মার্কেটিং অনলাইন মার্কেটিং নামেও পরিচিত। ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া যেমন গুগল, ইউটিউভ, বিভিন্ন ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদির মাধ্যমে কোনো পণ্য, প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডের প্রচারণাকে বোঝায়। বর্তমানে দেশে-বিদেশে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা ব্যপক। আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এ এক্সপার্ট হতে পারেন তাহলে ব্যাপক টাকা ইঙ্কাম করতে পারবেন। এমনকি ডিজিটাল মার্কেটিং এর স্কিল দিয়ে আপনি অফলাইনেও ক্যারিয়ার উন্নতি করতে পারবেন উদ্যোক্তা হয়ে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি সেক্টর হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি অন্যের প্রোডাক্ট সেল করে দিলে সেখান থেকে কিছু পরিমাণ কমিশন পাবেন। যারা সোশ্যাল মিডিয়াতে অযথা সময় নষ্ট করেন তারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং টা চেষ্টা করতে পারেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে এত এক্সপার্ট হতে হবেনা, বেসিক কিছু জ্ঞান থাকলেই হবে। আর সেই বেসিক জ্ঞানের জন্য আপনাকে কোনো কোর্স করতে হবেনা, এত সময়ও দিতে হবেনা। গুগল আর ইউটিউভ একটু ঘাটাঘাটি করলেই হবে। ভিডিও এডিটিং বর্তমানে ভিডিও এডিটিং এর চাহিদা ব্যাপক। যেকোনো বিয়ে বাড়ি, গায়ে হলুদ, বৌ-ভাত, জন্মদিনের অনুষ্ঠান,বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম, বিভিন্ন কনসার্ট ইত্যাদি ভিডিও ছাড়া চলেইনা। 


এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট প্লেসগুলোতে আপনি ভিডিও এডিটর হিসেবে হায়ার হয়ে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তাছাড়া, বর্তমান ইউটিউভাররা একজন ভালোমানের ভিডিও এডিটর খুঁজে। প্রথম দিকে ভিডিও এডিটিং শিখে আপনার উচিত কম টাকায় করে দেওয়া। পরে না হয় ধীরে ধীরে রেট বাড়াবেন। তবে ভিডিও বানিয়ে ভালো মানের ইউটিউভার হওয়ার জন্য, প্রচুর অর্ডার পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই এক্সপার্ট হতে হবে। ওয়েব ডিজাইন ডিজাইন এর মানে সাধারণত আমরা সবাই বুঝি ধরণ বা সাধারণ রুপ। ওয়েব ডিজাইন মানে হচ্ছে একটি ওয়েবসাইট দেখতে কেমন হবে বা এর সাধারণ রুপ কেমন হবে তা নির্ধারণ করা হয়। যারা ওয়েব ডিজাইন করেন তারা ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে পরিচিত। উচ্চ আয়ের পেশার মধ্যে ওয়েব ডিজাইন অন্যতম! তবে যারা রাতারাতি ইনকাম করে বিল গেটস হতে চাই, ওয়েব ডিজাইন তাদের জন্য নয়!কারন, ওয়েব ডিজাইনে পুরোপুরি এক্সপার্ট হতে গেলে যথেষ্ট সময়ের দরকার। আর একবার এক্সপার্ট হয়ে গেলেই কেল্লা ফতে!! ওয়েব ডেভেলপমেন্ট একজন ওয়েব ডিজাইনার ওয়েবসাইটে যে ডিজাইন তৈরি করেন তার প্রতিটা উপকরণকে ফাংশনাল এবং ডাইনামিক করার জন্য পরিচালিত কর্মকাণ্ডই হচ্ছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট। যারা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট করেন তারা ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে পরিচিত। আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর চাহিদা ব্যাপক জনপ্রিয়। ওয়েব ডেভেলপারদের ফিউচার লিখে প্রকাশ করা সম্ভব না। কিন্তু, আমি এটুকুই বলবো এক্সপার্ট ওয়েব ডেভেলপারদের চাহিদা ও গুরুত্ব আকাশ ছোঁয়া। ফটোগ্রাফি আপনি কি অনেক ভালো ছবি তুলতে পারেন? অথবা আপনি এমন একটা এরিয়াতে আছেন যে জায়গাটা মনোরঞ্জন দৃশ্যে পরিপূর্ণ? উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে আপনি কোনো অপশন ছাড়াই ফটোগ্রাফি সেক্টরটি নির্বাচন করুন। বর্তমানে এক্সপার্ট ফটোগ্রাফারদের চাহিদা ব্যপক। এছাড়া এটি একটি ভালো লাগার কাজের ভিতরেও পড়ে যায়। বোরিংনেস আসার সুযোগ নেই। ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট প্লেসগুলোতে আপনি আপনার তোলা সুন্দর ছবিটি বিক্রি করে প্রচুর ইনকাম করতে পারবেন। ট্রান্সলেশন আপনি যদি নিজের দেশের মাতৃভাষা ছাড়াও অন্যান্য দেশের ভাষা জেনে থাকেন, শিখে থাকেন বা এক্সপার্ট হোন ট্রান্সলেশনের কাজটি আপনার জন্য বেস্ট হবে। ফাইবার, আপওয়ার্ক এর মতো ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট প্লেসগুলোতে একটু চোখ বুলালেই আপনি অসংখ্য ট্রান্সলেশনের কাজ পেয়ে যাবেন। তবে এর জন্য আপনাকে অবশ্যই অন্যান্য ভাষা সম্পর্কে পরিষ্কার এবং ভালো ধারণা থাকতে হবে। টিউটর সচরাচর টিচারদের দাম বেশিই থাকে। কিন্তু করোনা কালীন সময়ে অনলাইন টিচারদের দাম আরও বেশি বেড়ে যায়। আপনি একটু খোঁজাখুঁজি করলেই অনলাইন টিচার লাগবে বিজ্ঞাপন খুঁজে পাবেন। তবে ইংরেজীতে এক্সপার্ট হতে পারলে তো কথায় নেই। ইংলিশ কান্ট্রির শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে বিপুল পরিমাণে ইনকাম করতে পারবেন। ভার্চুয়াল এসিসটেন্ট ভার্চুয়াল এসিসটেন্ট হওয়ার জন্য আপনার আহামরি এত স্কিলের দরকার নেই। তবে বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশের মানুষের সাথে এই কাজটা করতে চাইলে তাদের ভাষা নিয়ে টুকটাক জ্ঞান থাকলেই হবে। ভার্চুয়াল এসিসটেন্ট, পার্সোনাল এসিসটেন্ট বা PA হওয়ার মতোই। তবে সেটা ভার্চুয়ালি হয় বলে ভার্চুয়াল এসিসটেন্ট হিসেবে পরিচিত। ভার্চুয়াল এসিসটেন্টদের কাজগুলো সাধারণত যে ধরণের হয়ে থাকে- (মূলত হুম ওয়ার্ক শেষ করার মতোই) ১। গভেষণার কাজ। আপনাকে মূলত একটা টপিক দেওয়া হবে আর আপনার কাজ হবে সেই টপিক নিয়ে গুগল, বিভিন্ন বই, ইউটিউভ ঘাটাঘাটি করে রিসার্চ করা। ২। ম্যাসেজ রিপ্লে দেওয়া। অনেকে আছে যারা ব্যস্ততার জন্য ই-মেইলের ম্যাসেজ এর রিপ্লে দিতে পারেনা বা বিজনেজ রিলেটেড কোনো পেইজের তাৎক্ষনিক রিপ্লে দেওয়ার জন্য মালিক কাউকে রাখতে চাই। রিপ্লের ধরণ কেমন হবে তা মূলত তারাই আপনাকে বুঝিয়ে দেবে। কয়েকদিন যাওয়ার পর রিপ্লে দিতে দিতে আপনি নিজেই বুঝে যাবেন কোথায় কী রিপ্লে দিতে হবে! এমন আরও অনেক কাজ আছে, আপনি একটু ঘাটাঘাটি করলেই পেয়ে যাবেন। কন্টেন্ট রাইটিং আপনি যদি লেখালেখিতে ভালো হয়ে থাকেন, তাহলে তো কোনো কথায় নেই। বর্তমানে লেখালেখির চাহিদা লিখে শেষ করা যাবেনা। বাংলাদেশে অগণিত ওয়েবসাইট আছে যেখানে আপনি আপনার লেখা বিক্রি করে ইনকাম করতে পারবেন। তাছাড়া আপনি লেখালেখিতে বেশ ভালো মানের একটা পজিশানে থাকলে নিজে ওয়েবসাইট বানিয়ে লেখা প্রকাশ করে ইনকাম করতে পারবেন। তাছাড়া অনেকে আছে যারা কি-না তাদের লিখা কাব্য, উপন্যাস নিয়ে আইডিয়া নেওয়ার জন্য, হেল্প নেওয়ার জন্য লেখক খুঁজে। আপনি এভাবেও ইনকাম করতে পারবেন। তাছাড়া ইংরেজীতে এক্সপার্ট থাকলে ভালো মানের লিখা দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট প্লেসগুলো থেকে বেশ মোটা অংকের টাকাই ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমানে ইউটিউভাররা তাদের চ্যানেলের জন্য নতুন এবং ইউনিকিউ লেখক খুঁজেন, তাদেরকে ভালো মানের স্ক্রিপ্ট উপহার দিয়েও ইনকাম করতে পারবেন। নোটস আপনি যদি একাডেমিক লেখালেখিতে ভালো হয়ে থাকেন, তাহলে বিভিন্ন ক্লাসের ভালো মানের ইফেক্টিভ নোটস বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করতে পারবেন এবং ভালো মানের টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এগুলো ছাড়াও অনলাইন ইনকামের আরও অনেক রাস্তা রয়েছে। আপনি যদি সত্যিই অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চান, আপনাকে স্কিল অর্জন করতে হবে। আর যদি আপনার কোনো স্কিল ই না থাকে তবে আমি আপনাকে বলবো আপনি কোন সেক্টর দিয়ে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চান, সেটা নির্বাচন করুন আগে। এমন একটা সেক্টর নির্বাচন করবেন যেটায় সময় দিলে আপনি সফল হতে পারবেন। সেক্টর নির্বাচন করা হয়ে গেলে গুগল,ইউটিউভ ঘাঁটাঘাঁটি করে সেটার বেসিক ক্লিয়ার করুন। আর তারপর নির্দিষ্ট যেকোনো একটা ইউটিউভ চ্যানেল নির্বাচন করুন যেটায় আপনার সেক্টরটিতে এক্সপার্ট হওয়ার সকল খুঁটিনাটি স্টেপ বাই স্টেপ দেওয়া আছে। এতক্ষণ ধৈর্যসহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে। আমাদের সাথেই থাকুন। শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য। J